Commissioner Message


Md. Moazzem Hossain

কমিশনারের বক্তব্য/প্রত্যাশা

গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে বসবাসকারী বাঙালী জাতি তার দীর্ঘপথ পরিক্রমার প্রায় অধিকাংশ সময়ই ছিল স্ব-শাসন থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন বহিরাগত জাতি গোষ্ঠির শাসনের শৃঙখলে জাতি ছিল শৃঙখলিত। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে এরূপ পরাধীনতার  গ্লানি বাঙালী  জাতি কোনোদিন প্রতিরোধ ব্যতীত  সহ্য করেনি। পরাধীনতার শৃঙখলে থেকেও তাঁরা তাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে লালন করেছে পরাধীনতার শৃঙখল ভাঙার অবিনাশী স্বপ্ন। জাতীয় মুক্তির সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বকালের সেরা বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও অনুপ্রেরনায়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সেই প্রসুনঝরা দিনে অর্জিত হয় বাঙালীর হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন-রাজনৈতিক মুক্তি। কিন্তু আমাদের সংগ্রাম ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনে দৃপ্ত কন্ঠে উচ্চারিত ‘‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’’ যা যুদ্ধে জাতীকে করেছে উদ্দীপ্ত, উচ্ছাসিত এবং প্রণোদিত। বঙ্গবন্ধুর সেই উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে দেশ মাতৃকার অসংখ্য সূর্য সৈনিক আত্মজীবন বিসর্জন দিয়ে আমাদের তথা পরবর্তী প্রজম্মের জন্য ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে স্বাধীনতার লাল সূর্য। বাংলাদেশ লাভ করে লাল সবুজ পতাকা। বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত মুক্তির সংগ্রাম ছিল রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাঙালী জাতিরাষ্ট্র তথা বাংলাদেশ বিনির্মাণ যেখানে লক্ষ কোটি নির্যাতিত, নিস্পেসিত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের মুখে থাকবে অমলিন হাসি।

ইতিহাসের নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজ আমরা এক যুগসন্ধিক্ষনে উপনীত যেখানে অর্থনৈতিক মুক্তি কোনো বিমূর্ত ধারনা বা প্রপঞ্চক নয়, বরং একটি বাস্তবতা যেখানে বর্তমান সরকারের বাস্তব, বিজ্ঞচিত এবং জনবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশ আজ একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের দ্বার প্রান্তে। কিন্তু এতে আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। কারণ অর্থনৈতিক মুক্তির  যে অভিযাত্রায় আমরা শামিল হয়েছি তাতে এগিয়ে যেতে হবে অনেক দুর। এ সফল অভিযাত্রায় মূল অনুঘটক হচ্ছে পরনির্ভরতামুখী জাতীয় অর্থায়নের পরিবর্তে নিজস্ব তথা অভ্যন্তরীণ সম্পদের  মাধ্যমে স্ব-অর্থায়নে আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করনের লক্ষ্যে অসংখ্য নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশীয় কর্মসংস্থানের ব্যপ্তি বাড়ানো অন্যদিকে বৈদিশিক পুঁজি আকর্ষণ করে সেই উন্নয়নের রথযাত্রাকে আরো বেগবান করা। 

অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের আওতাধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ন্যায়-ভিত্তিক আইনী কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আদায় করে সরকারী কোষাগারে সরকারের মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ যোগান দিয়ে থাকে। এমন একটি জনসংশিস্নষ্ট এবং জনপূর্ণ সরকারী সংস্থার সকল কার্যক্রমে স্বচছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এর উপর জনগণের আস্থা সৃষ্টি তথা অধিকতর রাজস্ব সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভরশীল। অতীতের ভুল ভ্রান্তি যদি থাকে, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এর মাধ্যমে জন আকাঙ্খা পরিপূরণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ  ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনের ক্ষেত্রে সংঘটিত হয়েছে এক যুগান্তকারী বিপ্লব, ঘটেছে সমুদ্রসম পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় অর্থমন্ত্রীর দিক নির্দেশনার আলোকে বিরল প্রশাসনিক নেতৃত্ব দিচেছন সচিব, অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিষ্ঠানিক দর্শনে নিম্নবর্ণিত প্রপঞ্চসমূহের মাধ্যমে তিনি সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিচেছন এক নতুন ও বদলে যাওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেরঃ

(ক) Annual Performance Agreement (APA)
(খ) Strategic Action plan (SAP)
(গ) Budget Implementation Plan (BIP)
(ঘ) National Integrity Strategy (NIS)
(ঙ)  5Cs [Cooperation, Coordination, Coherence, Commitment & Courage]
(চ) 5Fs [Fund, Functions, Functionary, Facilitation & Freedom]
(ছ) 5 Is [Increased revenue collection, Improved office management for 
     better taxpayers service, Impressive stakeholder’s relation, Increased 
    use of ICT (ICT as enabler), & Integrity ]
(জ) 5 Ps [Political guidance, Public/Private partnership, Planning & Performance]
(ঝ) QQTTT [Quality, Quantity, Timeliness, Transparency & Teamwork/Team building]
(ঞ) GGMM (Good Governance & Modern Management) Frame work. 


উক্তরূপ দিক-নির্দেশনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনের আওতায় ১৯৯৩ সালে সৃষ্ট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রাজশাহী অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।